নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৫? Passport ar jonno ki ki lage

নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৫? Passport ar jonno ki ki lage


নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৫
নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৫


Passport ar Jonno Ki Ki Lage

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা কথা বলবো নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৫? 

সাধারণত সরকারি প্রতিটা সার্ভিস সেক্টর গুলোতে আমাদের হয়রানি শিকার হতে হয় শুধুমাত্র ভুল কাগজপত্র এর জন্য। তাই আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে কোনভাবেই ভুলভাবে ফরম ফিলাপ করা যাবে না - ব্যাংক ভাউচার - জন্ম নিবন্ধনের কার্ড - সার্টিফিকেট সহ আরো অনেক অনেক কাগজপত্র দরকার হবে। তবে এগুলোতে ভুল করা মানে আপনাকে বলবে ভাই আপনি কালকে আবার আসেন। সরকারি কর্মকর্তা গুলো কালকে আবার আসতে বলবে। কিন্তু আপনার ফর্ম এর উপরে লাল কলম দিয়ে দাগিয়ে দাগিয়ে পুরো ফর্ম লাল করে ফেলবে। যে এই এই জায়গাগুলো কালকে ঠিক করে নিয়ে আসবে। আবার কালকে যখন এগুলো ঠিক করে আপনি নিয়ে যাবেন, পুনরায় আবার বলবে এই এই পয়েন্টগুলো হয়নি। কালকে আবার আসেন এভাবে চলতে থাকে সার্কেল হা হা


দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করার নিয়ম

আমার পাসপোর্ট করার জন্য আমি তিনদিন গিয়েছিলাম পাসপোর্ট অফিসে। কারণ আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পাসপোর্ট এর জন্য কাউকে দুই পয়সাও দেবো না। তাই প্রথমদিন গিয়ে আমাকে বললো। অরিজিনাল সার্টিফিকেটের কাগজপত্র লাগবে। সেদিনকে অনেক রিকুয়েস্ট এরপরও কোনভাবেই একসেপ্ট করলো না। পরের দিনকে আবার বললো ফর্মে কাটাকাটি বা ভুল লেখালেখির জন্য রিজেক্ট করলো। পরের দিন আবার গেলাম সেদিন কেউ একসেপ্ট করে নাই। কিন্তু অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর। সবার টা একসেপ্ট করার পর সবশেষে আমাকে ডাক দিল ভাই এদিকে আসেন আপনার ফাইল টা দেন। এরপরে আমার টা একসেপ্ট করলো। তো বুঝতে পারছেন আমি কিন্তু আগে থেকেই সব জানতাম কি কি লাগবে - না লাগবে। সবকিছু সঙ্গে নিয়েছি তারপরও আমাকে তিনদিন ঘুরাইছে। এজন্য অবশ্যই ব্লগ পুরোটা পড়বেন আশা করি আপনার যে যে কাগজপত্র জন্য আপনাকে হয়রানির শিকার হতে হবে। সে সম্পর্কে আমরা আপনাকে জানিয়ে দেবো। passport ar jonno ki ki lage


নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে ২০২৫

  1. পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন
  2. পাসপোর্ট আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
  3. পাসপোর্ট এর আবেদন ফি প্রদানের ব্যাংক ভাউচার
  4. আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস


1.) পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন

পুরো বিশ্ব যখন চললে অনলাইনে, তবে প্রশ্ন হল- বাংলাদেশ কেন অনলাইন থেকে পিছিয়ে থাকবে। হ্যাঁ বন্ধুরা পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার জন্য আপনাকে দুইটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। একটি ধাপ হলো অনলাইন আর অফলাইন।

পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার জন্য যে কোনো কম্পিউটার এর দোকানে গিয়ে বলতে পারেন। ভাই আমি পাসপোর্ট করব আমার জন্য অনলাইনে আবেদন করে দিন। তাহলে দোকানদার আপনার ভোটার আইডি কার্ড. পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জন্ম নিবন্ধন কার্ড, সহ সব ডকুমেন্ট সঙ্গে নিয়ে যাবে এগুলো দেখে অনলাইনে আপনি পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাহলে আর হাতের লেখার ঝামেলা থাকলো না। তবে হ্যাঁ মনে রাখবেন অনলাইনে আবেদন করার পর। আবেদন কপি তিন কপি পৃন্ট দিবেন। তাহলে যেটা হবে- দুই কপি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। আর এক কপি আপনার কাছে এক্সট্রা থাকবে। যেটা আপনার পরবর্তীতে কোন না কোন কাজে আসতে পারে।

অফলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন এবং আবেদন ফরম কোথায় পাবেন। আবেদন ফরম কেনার জন্য আপনি কম্পিউটার দোকানে যেতে পারেন। অথবা নিজেই গুগলে সার্চ করতে পারেন "বাংলাদেশ পাসপোর্ট আবেদন পিডিএফ ফর্ম" এটা লিখে তাহলে আপনি অনলাইনে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করবেন। এরপর কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে প্রিন্ট করে নিয়ে আসবেন। তবে অবশ্যই তিন থেকে চার কপি পৃন্ট দিবেন। তাহলে 2 কপি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। আর বাকি এক কপি আপনার কাছে এক্সট্রা থাকবে। আর এক কপি লাগবে কারণ আপনি ফ্রম হাতে পূরণ করার সময়। কোথাও না কোথাও ভুলভ্রান্তি করে ফেলবেন। তখন আর সেখানে ঘষামাজা করতে পারবেন না। এজন্য একটি ফ্রম এক্সট্রা রাখবেন দরকার হয় প্রথমে একবার প্র্যাকটিস করবেন। পরবর্তীতে দুইটা ফর্ম সফলভাবে সম্পন্ন করবে। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য আমি সাজেস্ট করব অনলাইনে আবেদন করার জন্য। তাহলে অনেক হয়রানি থেকে বেঁচে যাবেন। কারণ হাতে লেখা ফর্মে কোথাও-না-কোথাও আপনার লেখা ছোট বড় কাটাকাটি সহ ছোটখাটো মিসটেক হতে পারে। যার জন্য আপনাকে বলবে ভাই ফ্রম ঠিক করে কালকে আর একবার আসেন। এইজন্য আমি বলব অনলাইনে ফরম টি সম্পন্ন করার জন্য। পাসপোর্ট অফিসারদেরকে আপনি যত সুযোগ করে দিবে। তারা আপনাকে তো তো ঘুরাবে এবং একটা পর্যায়ে পাসপোর্ট অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দালালদের সহযোগিতায় নিতে বাধ্য হবে হবেন। এজন্য অনলাইনে সম্পন্ন করুন। ডাউনলোড করুন। প্রিন্ট করে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।


2.) পাসপোর্ট আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পাসপোর্টে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র- গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলো নিচে দেওয়া হল ধাপে ধাপে। কিন্তু মনে রাখবেন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার জন্য আপনার প্রফেশন বেঁধে ক্ষেত্রভেদে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ে থাকে। এটা সাধারণত অন্যায় কিছু নয়। কারণ আপনি স্টুডেন্ট হলে আপনার কাগজপত্র এক রকম ভাবে জমা দিতে হবে। সাধারণত স্কুল পর্যায়ের কাগজপত্র জমা দিলেই হয়। আবার আপনি যদি সরকারি কোন পেশায় থাকেন সেক্ষেত্রে আপনার সরকারি কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ডাক্তার - ইঞ্জিনিয়ার দের জন্য আলাদা - আলাদা।

সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা - এমপি মন্ত্রীদের জন্য আলাদা - বাচ্চাদের জন্য আলাদা - আরও হরেক রকম ক্ষেত্র আছে বাংলাদেশ। যেগুলো প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা কাগজপত্র নিয়ে থাকে। এইজন্য আমার সাজেশন হলো আপনি বাসায় থেকে বের হয়ে যখন পাসপোর্ট অফিসের দিকে রওনা দিবেন তার আগে আপনার ফাইলের মধ্যে যত প্রকার কাগজপত্র আছে। ফটোকপি অরিজিনাল সহ সব নিয়ে যাবেন। তবে ফটোকপি গুলো সত্যায়িত করে রাখবেন। তাহলে আশাকরি আপনাকে আর ঘুরে আসতে হবেনা প্রথমদিন কে আপনাকে একসেপ্ট করবে।

  1. আবেদনের কপি
  2. জাতীয় পরিচয়পত্র/ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
  3. ঠিকানার প্রমাণপত্র/ ইউটিলিটি বিলের কপি
  4. পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ফটোকপি ও অরিজিনাল পাসপোর্ট
  5. পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  6. পেশাগত সনদের ফটোকপি বা চাকুরীর আইডি কার্ড (পেশাজীবির ক্ষেত্রে- যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবি)
  7. নাগরিক সনদ/ চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট

3.) পাসপোর্ট এর আবেদন ফি প্রদানের ব্যাংক ভাউচার

পাসপোর্ট এর আবেদন ফি কিভাবে এবং কোথায় জমা দিবেন। এটা খুবই সহজ একটা পদ্ধতি এখানে আপনাকে কোন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় না। এজন্য আপনি সঠিক সময়ে সঠিকভাবে পাসপোর্ট এর জন্য নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে পারেন। ব্যাংকে গিয়ে অথবা মোবাইল অ্যাপে। যেমন ধরুন ইদানিং বিকাশে - নগদে সহ আরো অনেক মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস গুলোতে পাসপোর্ট ফি গ্রহণ করা হয়। আপনি চাইলে ঘরে বসে জমা দিতে পারেন। আর যদি ব্যাংকে গিয়ে জমা দেন সেক্ষেত্রেও হয়। আপনি ব্যাংকে গিয়ে, গেটে যে আনসার ভাই দাঁড়িয়ে থাকে উনাকে বলবেন ভাই আমি পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দিব। তাহলে উনি আপনাকে কত নাম্বার কাউন্টারে যেতে হবে আপনাকে বলে দিবে। আপনি ওখানে গিয়ে শুধু টাকা জমা দিয়ে ব্যাংকে থেকে একটা ভাউচার দিবে বা টাকা জমা দেওয়ার একটি প্রমাণস্বরূপ রশিদ দিবে। সেটা আপনার আবেদন ফরমের উপরে স্ট্যাপলার করে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিয়ে দিবেন। ব্যাস তাহলেই হবে। পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে - পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২৩

[ এপ্লাই করতে ৪০২৪ টাকা জমা দিতে হয়। আর পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ 22 দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে ]

4.) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

এখন কথা হলো পাসপোর্ট আবেদন ফরম কোন অফিসে জমা দেবেন। সাধারণত নিজ নিজ জেলায় একটি করে পাসপোর্ট অফিস হয়ে থাকে। সেজন্য আপনার পাসপোর্টে আবেদনের জন্য আপনার নিজ জেলায় গিয়ে জমা দিতে হবে। তবে মনে রাখবেন পাসপোর্ট অফিসের বাইরে আপনার অসংখ্য ভাই অসংখ্য মামারা দাঁড়িয়ে থাকে আপনাকে সাহায্যের জন্য। আপনি গেলেই আপনার হাত থেকে পাসপোর্ট এর ফরম নিয়ে দেখা শুরু করে এবং আপনাকে সাহায্যের জন্য জড়াজড়ি করে। তবে এদের থেকে সাবধান। 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url