সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত || সকালে ব্যায়াম করার নিয়ম || সকালে ব্যায়াম করার উপকারিতা

 সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত

সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত
সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত


ভুমিকা : ব্যায়াম হলো একটি শারীরিক ক্রিয়া বা কাজ, যা নিয়মিতভাবে করে থাকা মাধ্যমে শরীরের স্বাস্থ্য এবং সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। ব্যায়াম করা একটি শারীরিক কর্ম হয়, যা শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং পাঁচ মাংসপেশীকে চালু এবং সুস্থ রাখে। ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর স্বাস্থ্যকে উন্নয়ন করা হয় এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে শরীর অধিক ফিট এবং সুস্থ হয়ে উঠে।ব্যায়াম করার প্রয়োজনীয়তা একটি মানসিক স্বাস্থ্য থেকে শুরু হয়, সমস্যাপূর্ণ এবং স্ট্রেসফুল জীবনযাপন করতে থাকা মানুষদের জন্য ব্যায়াম একটি সমাধান হিসাবে কাজ করে -  সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করাতে স্বাস্থ্যকর এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিভিন্ন উপকার লুকায়িত। 

ব্যায়াম পরিচিতি : ব্যায়াম বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, তবে প্রধানতঃ তিনটি ধরনে বিভক্ত করা হয়:

১. আয়োজিত ব্যায়াম: এগুলি সাধারণত কোন স্পেশাল অবস্থানে বা জিমে করা হয় এবং প্রশিক্ষণকৃত প্রফেশনাল কোচের সাথে করা হয়। যেমন- ওয়েট লিফটিং, রানিং মেশিন ব্যবহার করে ট্রেডমিলে রানিং করা, এক্সারসাইজ বাইক ব্যবহার করে সাইকেল চালানো ইত্যাদি।

২. মনোযোগপূর্ণ ব্যায়াম: এগুলি মনোযোগপূর্ণ ব্যায়াম হিসেবে পরিচিত। এই প্রকারের ব্যায়াম করে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন করা যায়। যেমন- যোগাসান, মেডিটেশন, তাইচি ইত্যাদি।

৩. স্বাধীন ব্যায়াম: স্বাধীন ব্যায়াম হল সেই ধরনের ব্যায়াম যা ব্যক্তি নিজে নিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে এবং বিভিন্ন স্থানে এবং সময়ে করা যায়। এটি পরিবেশসম্পূর্ণ এবং সাধারণত যেকোন বয়সের লোকের জন্য উপযোগী। এগুলি বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন সময়ে নিজে নিজে করা যায়। এগুলি বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন- জগিং, গতিবিধি ব্যায়াম, জিম করা ইত্যাদি।


ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা : ব্যায়াম মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে উন্নয়ন করতে সাহায্য করে। 

এর প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপঃ

  • শারীরিক স্বাস্থ্য- ব্যায়াম করা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি হৃদয় এবং শ্বাসকণ্ঠ সম্পর্কিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্যায়াম করার মাধ্যমে শরীরের দুর্বল এলাকাগুলো উন্নয়ন করা হয় এবং মজুদ ক্ষমতার মধ্যে উন্নয়ন করে তাদের উপযোগিতা বাড়ানো হয়।
  • মানসিক স্বাস্থ্য- ব্যায়াম করার মাধ্যমে মনের স্বাস্থ্য উন্নয়ন করা যায়। এর মাধ্যমে মনের চাপ কমায় এবং নিজেকে শান্ত এবং তরুণ মনের মতো আনন্দময় ব্যক্তি হিসেবে অনুভব করা যায়। এটি মনোবিজ্ঞানিক সমস্যা ব্যাপ্ত হওয়া যেমন ডিপ্রেশন, উদাসীনতা, উচ্চ স্ট্রেস এবং অস্থিরতা সমাধান করতে সাহায্য করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ- ব্যায়াম করার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। যেমন যদি আপনি ব্যায়াম করে প্রতিদিন প্রয়াস করেন তবে আপনার শরীরে মেটাবলিক দক্ষতা বা কাজকর্মের হার বাড়বে এবং এটি আপনার ওজন কমানোর জন্য সহজ হবে। এছাড়াও ব্যায়াম করার মাধ্যমে আপনি শরীরের অধিকাংশ স্থানে শিরা ও পেট এলাকা মোটামোটি কমাতে পারেন।

ব্যায়ামের উপকারিতা : ব্যায়াম করার উপকারিতা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসম্পর্কিত দিক থেকে অনেকগুলো রয়েছে। 

নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা উল্লেখ করা হলো:

  • হৃদয়ের স্বাস্থ্য উন্নয়ন: ব্যায়াম করার মাধ্যমে হৃদয়ের কাজের দক্ষতা বাড়ায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর মাধ্যমে রক্তচাপ, লিপিড মেটাবলিজম, কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক এবং কর্ডিওভাসকুলার মৃত্যু এর ঝুঁকি কমানো যায়।
  • পেশী এবং হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নয়ন: ব্যায়াম করার মাধ্যমে শরীরের দুর্বল এলাকাগুলো উন্নয়ন করা হয় এবং মজুদ ক্ষমতার মধ্যে উন্নয়ন করে তাদের উপযোগিতা বাড়ানো হয়। এর মাধ্যমে পেশী ও হাড়ের দুর্বলতা দূর হয়।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: ব্যায়াম করার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে । একটি নিয়মিত ব্যায়াম পরিকল্পনা আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

  1. ব্যায়াম আপনাকে সুখী অনুভব করতে পারে। 
  2. ব্যায়াম এর মাধ্যমে ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব। 
  3. ব্যায়াম আপনার শক্তির পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে।
  4. ব্যায়াম আপনার পেশি এবং হাড়ের জন্য উপকারী।

ব্যায়াম আপনার ভয়ংকর রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। যেমন: ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং এজাতীয় বিভিন্ন কঠিন রোগ।

ব্যায়াম আপনার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তির উন্নয়ন করতে পারে। ব্যায়াম করার মাধ্যমে শরীরে উচ্চ মাত্রার এক্সজেন প্রদর্শন হয়, যা শরীরের সকল অংশের সম্মত কাজকর্ম করতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বা কনসেনট্রেশন বৃদ্ধি হয়।

ব্যায়াম আপনার যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।


 সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত : 

ব্যায়াম প্রধানত- দুটি সময়ে করা যায় - সকালে এবং সন্ধ্যায়। সকালে ব্যায়াম করা সুস্বাস্থ্য সম্পন্ন জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দিনের প্রথম কাজ হিসাবে শরীরের প্রতিটি অংশে শক্তি তুলে ধরে ও শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও সকালে ব্যায়াম করার পর মানসিক স্বাস্থ্যে একটি পজেটিভ প্রভাব পরে। সকালে ব্যায়াম করার সাথে সাথে শরীর নিজস্ব হরমোন উৎপন্ন করতে শুরু করে যা দিনটি বেশি কাজ করার পর স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়-  সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত। তাই দুপুরের সময় একটি সক্ষম ব্যায়াম করা যেতে পারে যা শরীরের শক্তি ফিরিয়ে দেয় এবং সন্ধ্যা সময়ে ব্যায়াম করা হলে শরীরের ব্যবহৃত শক্তি উপযুক্ত ভাবে ব্যবহৃত হয় এবং শরীরের সম্পূর্ণ পরিমাণ ক্ষতিপূরণ হয়। আপনি যেখানে সময় পান তারই সময়ে ব্যায়াম করতে পারেন, তবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি পেলে এটি আরো সুবিধাজনক হতে পারে।

সকালে কোন কোন ব্যায়াম করা উচিত : সকালে ব্যায়াম করা একটি ভাল আদর্শ, কারণ প্রাতঃকালে ব্যায়াম করা আপনার দিনের শুরুটাকে সুস্থ ও উত্সাহী করে তোলে। সকাল একটি উপযুক্ত সময় ব্যায়াম করার জন্য। সকালে ব্যায়াম করা সমস্ত শারীরিক এবং মানসিক উন্নয়নে সহায়তা করে। এছাড়াও সকাল ব্যায়াম করা ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন ও কর্মকাণ্ডের জন্য শক্তিশালী একটি শুরু তৈরি করে যা দিনের অন্যান্য সময়ের জন্য উৎসাহ ও শক্তি সরবরাহ করে।

সকালে কিছু নিম্নলিখিত ব্যায়াম করা উচিত যেমনঃ

১। ওয়াকিং বা রানিং: যেহেতু ওয়াকিং এবং রানিং খুবই সহজ এবং সময়ের দৃষ্টিতে খুব কম সময় নেয়, সেখানে সকালে এই ব্যায়ামটি করা উত্তম।

২। স্কোয়াট বা উঠো বসো ব্যায়াম। স্কোয়াট করতে সমস্যা নেই এবং সকালে এটি করা খুব উপযোগী। এটি আপনার পা, হাঁটানো সম্পর্কিত মাংসপেশীগুলি চাপা এবং আপনার সাধারণ কনডিশনকে উন্নয়ন করে।

৩। জাম্পিং জ্যাক বা স্টেপ আপ ব্যায়াম। এটি আপনার হাত, পা এবং সাধারণ শরীরের মাংসপেশীগুলি শক্তিশালী করে এবং সকালে জম্পিং জ্যাক করা উপযোগী হতে পারে।

৪। বাইসাইকেল চালানো বা সাইকেল চালানো।

৫। জগম করার পর ব্যাংক পাশে তোলা।

৬। বৃদ্ধি বা স্কোয়াট করার পর বাইসাইকেল চালানো।

৭। পুশ আপ: সকালে পুশ আপ করা আপনার হাত, বুক এবং কমর চুল বড় করে এবং শক্তিশালী করে।

৮। লাঙ বোল: এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে এবং পেশী গুলি শক্তি বাড়ায়।


সকালে ব্যায়াম করার উপকারিতা :

সকালে ব্যায়াম করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। একটি সকালের ব্যায়াম সেট করা আপনাকে স্বাস্থ্যবান ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে এবং দিনের শুরুটা আপনাকে প্রাণিক উন্নয়ন করবে।

সকালে কিছু ব্যায়ামের উপকারিতা নিম্নলিখিত-

  1. সকালে ব্যায়াম মনোমুগ্ধকর এবং শান্তি সৃষ্টি করে। সকালে ব্যায়াম করা আপনার দিনটি সুখী করে এবং আপনার মনকে শান্ত রাখে।
  2. শরীরের প্রতিটি অংশকে তাৎক্ষণিক চাপ দেয়। সকালে ব্যায়াম করা শরীরে প্রতিটি অংশকে তাৎক্ষণিক চাপ দেয় এবং স্বাস্থ্যকর হওয়ার সাথে সাথে শরীরের ক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি হয়।
  3. ওজন কমানো সহজ হয়। সকালে ব্যায়াম করলে ওজন কমানো সহজ হয়। সকালে ব্যায়াম করার পর শরীরে কাজের প্রতিক্রিয়া গতি বাড়ে এবং ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
  4. শ্বাসকল্প ও হৃদয় প্রতিক্রিয়া ভাল হয়। সকালে ব্যায়াম করার মাধ্যমে শ্বাসকল্প ও হৃদয় প্রতিক্রিয়া ভাল হয়।

প্রাণিক উন্নয়ন: সকালে ব্যায়াম করা আপনার হৃদয়কে ত্বরান্বিত করে এবং আপনার শ্বাসকণ্ঠকে খোলা রাখে। এটি আপনার প্রাণিক তন্ত্রকে সম্পূর্ণ চালু রাখতে সাহায্য করে এবং আপনাকে সক্ষম করে ফেলে দেয় শরীরে অধিক অক্সিজেন পরিবেশন করতে।

বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ: সকালে ব্যায়াম করা আপনার শরীরে নির্মল রক্তচাপ বজায় রাখে এবং এটি বিভিন্ন রোগ যেমন হৃদয় রোগ, ডায়াবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

হৃদয়ের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে তুলে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে হৃদয়ের কার্যক্রমকে উন্নত করা যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদয়ের চাপকে কম করে এবং হৃদয়ে অধিক অক্সিজেন পাঠানো যায়।


সকালে ব্যায়াম করার নিয়ম : 

প্রথমেই একটি ব্যায়াম পরিকল্পনা তৈরি করুন। আপনি যে ধরনের ব্যায়াম করবেন সেটি পরিকল্পনা করুন। এটি আপনার কোন ফিটনেস লেভেল না দেখে আপনার শরীরের স্বাস্থ্য অবস্থা এবং লক্ষ্য পর্যালোচনা করে তৈরি করতে হবে।

পর্যায়ক্রমে শুরু করুন: সকালে ব্যায়াম করতে শুরু করার আগে শরীর সম্পূর্ণ উঠে পড়তে দিন। ধীরে ধীরে ব্যায়াম শুরু করে আপনি আপনার শরীরের জন্য ভালো হবেন।

নির্বিচারে শুরু করুন: ব্যায়ামের সময় নির্বিচারে শুরু করুন। ধীরে ধীরে শুরু করে আপনি আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারেন।

শুরুতে ডান পা দিয়ে একটি স্টেপ দিন। এরপর বাম পা দিয়ে স্টেপ দিন। এভাবে দুটি পা দিয়ে স্টেপ দিন। এটি ওজন হতে সাহায্য করবে এবং সম্ভবত আপনি সকালে উঠার পর পেটে গ্যাস সংকট থেকে মুক্তি পাবেন।

সম্ভব হলে আপনি ব্যায়ামের জন্য সময়টি নির্বাচন করুন। সকালে ব্যায়াম করা খুবই সুস্বাস্থ্যকর এবং ব্যস্ত জীবনস্তরে আপনি সকালে ব্যায়াম করলে আপনি দিনের বাকি সময়টি ফুরিয়ে যাবেন।


উপসংহার : 

সাধারণভাবে, ব্যায়াম শরীরের স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থাতে উন্নতি আনে যা মানসিক এবং শারীরিক দুটি সমন্বয়ে লক্ষ্য করে। এর মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক সমস্যা মিটে যেতে পারে এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে নিয়মিত ব্যায়ামের ব্যাপারটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করা স্বাস্থ্য প্রদর্শনী ও অবস্থার ক্ষেত্রে অনেকটা হাত দেয়া অনুমানের মধ্যে পড়ে। আবার নিয়মিত ব্যায়াম করার সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url