ব্যায়াম করার আগে ও পরে কি খেতে হয়? ২০২৫
ব্যায়াম করার আগে ও পরে কি খেতে হয়?
![]() |
ব্যায়াম করার আগে ও পরে কি খেতে হয়? |
ব্যায়াম পরিচিতি: ব্যায়াম হলো এমন কিছু শারীরিক কার্যকলাপ যা শরীরের প্রতিটি অংশের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বজায় রাখার জন্য করা হয়। এটি শারীরিক ক্ষমতা বা বাড়ানোর জন্য উপযোগী এবং ব্যায়ামকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি শরীরের স্বাস্থ্য পরিচর্যার মাধ্যমে দুর্বলতা এবং অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাবেন। ব্যায়ামের ধরণ অসংখ্য এবং এসব বিভিন্ন প্রকার ব্যবহার করে আপনি আপনার স্বাস্থ্য ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
কিছু প্রধান ব্যায়ামের উদাহরণ হলো:
১। কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম: কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম হলো শরীরের হৃদয় ও শ্বসন ব্যবস্থার সম্পর্কিত ব্যায়াম। এগুলি দৌড় দৌড়ানো, সাইকেলিং, স্কোয়াট, স্টেপিং এবং সৈকল চালানো সহ বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের মধ্যে থাকে। এই ধরণের ব্যায়াম হৃদয় স্বাস্থ্য ও শ্বসন ব্যবস্থার উন্নয়নে উপযোগী হতে পারে।
২। স্ট্রেংথ ট্রেনিং: এটি মূলত মাংসপেশী উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়। স্ট্রেংথ ট্রেনিং দ্বারা আপনি আপনার শারীরিক শক্তি ও স্ট্রেংথ বাড়াতে পারেন। এটি হালকা বেশি ও ভারী ওজনের হাতবলদ ব্যবহার করে মাংসপেশী বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন, হাতবলদ, বারবেল, ডাম্বেল এবং মেশিন ব্যবহার করে স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা হয়। এছাড়াও কুশলতা ও স্ট্রেংথ বাড়াতে হালকা স্ট্রেংথ ট্রেনিং যেমন পুশ-আপ, স্কোয়াট, লান্জ এবং ক্রান্তি ব্যবহার করে করা হয়। স্ট্রেংথ ট্রেনিং আপনাকে শারীরিক চাপ ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখে এবং আপনার স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়তা করে।
৩। এরোবিক্স বা কার্ডিও ব্যায়াম: এটি হৃদয় এবং শ্বাসকণ্ঠের জন্য উপযোগী এবং এনর্জি প্রস্তুতি এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে উন্নয়ন করতে সাহায্য করে। এরোবিক্স ব্যায়ামের মধ্যে স্বচ্ছ হাওয়ায় চলার মাধ্যমে সাধারণত শারীরিক কাজের ক্ষেত্রে ব্যয় হয় বেশি এনার্জি এবং একটি শ্বাসকণ্ঠ বা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের কাজ করার জন্য এরোবিক্স ব্যায়াম সহায়তা করে। ব্যায়াম করার আগে ও পরে কি খেতে হয়? উদাহরণস্বরূপ, জগিং, সাইক্লিং, স্কেটিং এবং সাঁতার পরিবহন একটি এরোবিক্স ব্যায়ামের উদাহরণ।
খাদ্য ও ব্যায়াম: খাদ্য এবং ব্যায়াম দুটি একত্রিত মৌলিক উপাদান যা আমাদের স্বাস্থ্য এবং সম্পূর্ণ প্রজন্মের জীবন যাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য হল শরীরের শক্তির উৎস এবং ব্যায়াম একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম যা শরীরের স্বাস্থ্যকর স্থিতি বজায় রাখে। যখন আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার খাই এবং নিয়মিত ব্যায়াম করি তখন খাদ্য এবং ব্যায়াম একসাথে কাজ করে। শরীরে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট এবং মিনারেল এবং ভিটামিন এর জন্য সমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ব্যায়াম করার আগে কি খেতে হয়? ব্যায়াম করার আগে খাদ্য সম্পর্কে বিবেচনার প্রয়োজন আছে কারণ আপনি যদি খাদ্য খেতে না জানেন তবে এটি আপনার ব্যায়াম থেকে আপনার স্বাস্থ্যকে ক্ষতি করতে পারে। স্বাভাবিকভাবে ব্যায়াম করার আগে খেতে হয়। খাবারটি আপনার পরিবেশের উপযোগী হতে হবে এবং খাদ্যের সামগ্রীগুলি ব্যায়ামের পরিমাণ এবং প্রকারের উপযোগী হতে হবে। সাধারণত ব্যায়াম করার আগে খাবার হিসাবে খাবার সমূহ যেমন পরিষ্কার ফলমূল, স্বাদে নির্ভরযোগ্য মুখোশ ধারণ করা মাংস বা প্রোটিন স্ন্যাক এবং গরম যোগ দেওয়া হলে কাজের জন্য উপযোগী হতে পারে। ব্যায়াম করার আগে একটি সঠিক খাবার খেতে হয় যাতে আপনার শরীরের উপকারিতা হয়। এটি আপনার প্রকৃতি ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
ব্যায়াম করার আগে ও পরে কি খেতে হয়?
ফল এবং সবজি: ব্যায়ামের আগে ফল এবং সবজি খাওয়া উচিত। এগুলি আপনার পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রকারের কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। ফল ও সবজি আপনাকে শ্রম করার জন্য উপযোগী শক্তি সরবরাহ করবে। এবং এটি ব্যথা ও অস্থিরতাকে কমানোর সাথে সাথে আপনার স্বাস্থ্যকে উপকার করবে। এটি আপনার শরীরের খাবার উপাদানের সঠিক মাত্রা এবং প্রয়োজনীয় পোষণ সরবরাহ করে। ফল ও সবজি আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পোষকদ্রব্য সরবরাহ করে যা আপনার শরীরের ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যেমন পেঁপে, কমলা, পাইনাপল ইত্যাদি। এগুলি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং হাইড্রেট যুক্ত খাবার।
প্রোটিন: ব্যায়াম করার আগে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন পূর্ণ হয়। প্রোটিন যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন এটি শরীরের মাংসপেশী উন্নয়ন করে এবং বাইরে থাকা অধিক প্রোটিন ভাঙ্গি করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া উচিত যাতে আপনি দীর্ঘকাল ধারণ করতে পারেন। মাংস, মাছ, ডিম, চিকেন পেঁপে, দই, লেন্টিল চিংড়ি, পনির, দুধ এবং দই প্রোটিনের উৎস হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মিশ্রিত নাস্তা: আপনি স্বচ্ছ এবং উপযুক্ত মিশ্রিত নাস্তা ব্যায়ামের আগে খেতে উপযোগী হতে পারে। এটি আপনাকে এনার্জি সাপ্লাই করবে যা ব্যায়ামের সময় ব্যয় করা যাবে। মিশ্রিত নাস্তার জন্য আপনি এই খাবারগুলি খেতে পারেন: প্রস্তুত দুধ বা দই, ফলমূল, ওটস এবং স্যারালা যুক্ত সিঙ্গারা বা মুগ ডালের পাটিস মুগ ডাল এবং স্যারালা যুক্ত ধনে পাতা বাটি সুপ, মিশ্রিত সবজি স্যালাড ইত্যাদি।
দুধ: দুধ অথবা দুধ থেকে তৈরি কোনও উপাদান ব্যায়ামের আগে খেতে পারেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হয় এবং আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পোষণ সরবরাহ করতে সাহায্য করে।
উচ্চ ফাইবার সম্পন্ন খাবার : উচ্চ ফাইবার সম্পন্ন খাবার খেলে একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া শরীরে ঘটে যা উচ্চ ফাইবারের উপস্থিতির কারণে। এই প্রক্রিয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নে সাহায্য করে। ব্যায়ামের আগে উচ্চ ফাইবার সম্পন্ন খাবারগুলো খেতে পারেন। যেমন: স্পিনাচ, ব্রোকলি, গাজর, বেগুন, ডাল এবং ফল যেমন আপেল, পেঁপে, কমলা, আম এবং প্রোটিন সৃষ্টিকারী বিভিন্ন খাবার।
ব্যায়াম করার পরে কি খেতে হয়? ব্যায়াম করার পরে সঠিক খাদ্য গ্রহণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে আপনি খুব বেশি ক্যালোরি ব্যয় করতে পারেন যা আপনার শরীরের শক্তি খরচ করে। এতে কাজে লাগানো শক্তি ফেরত পাওয়া একটি উপায় হল খাবারের মাধ্যমে। তবে খেতে হয় সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক ধরনের খাবার। ব্যায়াম করার পরে আপনি প্রথমে পানি পান করতে হবে, যাতে আপনার শরীরের হাইড্রেশন লেভেল সঠিক থাকে। তারপরে আপনি একটি সম্মত ডাইট ফলো করতে পারেন যা আপনার শরীরের পুনরুদ্ধার করবে এবং পুনরুদ্ধার করবে আপনার উচ্চ ক্যালোরি খরচগুলি।
বিশেষত প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট ধারণ করা ভালো হবে যা আপনাকে পুনরুদ্ধার করবে এবং শরীর এনাবল করবে উচ্চ শক্তি স্তরে ব্যবহার করার জন্য। ব্যায়াম করার পরে সঠিক পরিমাণে সবজি এবং ফল খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিমাণে সবজি এবং ফল খেলে আপনার শরীর একটি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদের মাধ্যমে আপনি পরিবেশে পাওয়া বিভিন্ন পদার্থসমূহের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরক্ষা করতে পারেন। যেমন আপনার শরীর এনজাইম ব্যবহার করে প্রোটিন থেকে আমিনো অ্যাসিড তৈরি করবে এবং ফলের মাধ্যমে আপনার শরীর উপকারের ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার প্রাপ্ত হবে।
উপসংহার: খাবার হল শরীরের শক্তির উৎস এবং ব্যায়াম একটি প্রাকৃতিক মাধ্যম যা শরীরের স্বাস্থ্যকর স্থিতি বজায় রাখে। খাদ্য ও ব্যায়াম একত্রিত সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। নির্দিষ্ট খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা সম্পূর্ণ প্রজন্মের শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতত্ত্ব অনুযায়ী প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট এবং মিনারেল এবং ভিটামিনের একটি সমৃদ্ধ মিশ্রণ খেতে হবে। এছাড়াও, ব্যায়াম করার সময় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট এর উপর ভিত্তি করে শক্তি খরচ করে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে একসাথে কাজ করলে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিবন্ধী হিসাবে শরীরের রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।